বিশ্বব্যাপী সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়ার্ল্ড স্টিল) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ১৮ লাখ টনে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
ওয়ার্ল্ড স্টিল তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের ৭০টি দেশের ইস্পাত উৎপাদনের তথ্য প্রকাশ করেছে। ধাতব পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদনে দেশগুলোর অবদান ৯৮ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত মাসে বিশ্বব্যাপী ইস্পাত উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ চীনের উৎপাদন হ্রাস। ইস্পাতের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের বড় অংশ চীনের দখলে। নির্মাণ ও আবাসন খাতে চাহিদা নিম্নমুখী থাকায় দেশটির মিলগুলো উৎপাদন কমিয়েছে। ওয়ার্ল্ড স্টিলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত মাসে চীনের মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৩৫ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
ভারত বেশ কয়েক মাস ধরে ইস্পাত উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে। গত মাসে দেশটিতে উৎপাদন বেড়েছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। এ সময় মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩৬ লাখ টন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতের ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন, নির্মাণ প্রকল্প ও সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে। সড়ক, রেল ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণে ইস্পাতের চাহিদা বাড়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ মিলগুলো উৎপাদন বাড়িয়েছে। পাশাপাশি রফতানির সুযোগ ও তুলনামূলক কম জ্বালানি খরচও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
ওয়ার্ল্ড স্টিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত উৎপাদন বেড়ে ৬৯ লাখ টনে পৌঁছেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এ সময় জাপানের উৎপাদন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪ লাখ টনে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে আফ্রিকায় সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ৮ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল। এ সময় অঞ্চলটিতে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ টনে।
এশিয়া ও ওশেনিয়ার দেশগুলোয় উৎপাদন কমে ১০ কোটি ২৯ লাখ টন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোয় ইস্পাত উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১ লাখ টনে। এটি গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এ সময় অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে উৎপাদন ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৩৬ লাখ টনে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইইউভুক্ত দেশে ইস্পাত উৎপাদন কমার মূল কারণ শিল্প খাতে চাহিদা হ্রাস। বিশেষ করে নির্মাণ ও গাড়ি শিল্পে মন্দা দেখা দেয়ায় উৎপাদন কমেছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরে ব্যয়ের কারণেও অনেক কারখানা উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।